পিলখানা হত্যা মামলায় ১৭ বছর কারাবন্দি, জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেন পলাশ
পিলখানা হত্যা মামলায় ১৭ বছর কারাবন্দি, জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেন পলাশ
দীর্ঘ ১৭ বছর কারাবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন পিলখানা হত্যা মামলার আসামি পলাশ সরকার। তার বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ২ নং মুন্সিরহাট ইউনিয়নের উত্তর কমুয়া গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে। তিনি নুর হোসেন এর বড় ছেলে।
বৃহস্পতিবার (০৯ আগস্ট ২৬) বাড়িতে ফেরার পর তাকে একনজর দেখতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই দীর্ঘদিন পর তাকে ফিরে পাওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদর দপ্তরে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সময় পলাশ ছুটিতে নিজ বাড়িতে ছিলেন। পরে কর্মস্থলে যোগদান করলেও তাকে ওই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার আসামি করা হয়। পরিবারের দাবি, তিনি নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও মামলায় জড়িয়ে প্রায় ১৭ বছর কারাবন্দি ছিলেন। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভের পর তিনি বাড়িতে ফেরেন।
পলাশের বাবা নুর হোসেন বলেন, “আমার ছেলেকে ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যা মামলায় মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ তাকে ফিরে পেয়েছি। একজন বাবা হিসেবে আজকের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন আমরা চাই, আদালতে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হোক।”
উত্তর কমুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আবদুল কাদের উসমান বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর পলাশকে এলাকায় ফিরে পেয়ে আমরা আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই তাকে চিনি। তার পরিবারের কষ্ট আমরা খুব কাছ থেকে দেখেছি। এখন আমরা চাই আদালতের চূড়ান্ত বিচারে সত্য উদঘাটিত হোক।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “একটি পরিবারের জন্য ১৭ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। পলাশের বাবা-মা ও স্বজনরা যে কষ্ট সহ্য করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা চাই, বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হোক এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।”
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
হত্যা মামলায় ৮৫০ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৩ সালে বিচারিক আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৭৮ জনকে খালাস দেন। পরে হাইকোর্টের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন, ২২৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল থাকে এবং ২৮৩ জন খালাস পান। বর্তমানে হত্যা মামলার আপিল ও লিভ টু আপিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
অন্যদিকে, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ৮৩৪ জন আসামি রয়েছেন। মামলায় ১,৩৪৪ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ৫৯ জন আসামি মারা গেছেন এবং ২০ জন পলাতক রয়েছেন। মামলাটি এখনও কেরানীগঞ্জে বিশেষ আদালতে বিচারাধীন।
এ ছাড়া, পিলখানা ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৮,৭৯৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং ৮,৫৯২ জনকে বিভিন্ন শাস্তি দিয়ে চাকরিতে বহাল রাখা হয়। পরবর্তীতে ২৩ জানুয়ারি ২০১১ সালে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাখা হয়।
পলাশ ও তার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তিনি মিথ্যা মামলায় আসামি হয়েছিলেন। তবে মামলাটি এখনও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি এবং এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায়ই আইনগতভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।







