পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে ফেঁসে গেলেন ফেনী কলেজের শিক্ষার্থী বাবর
পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে ফেঁসে গেলেন ফেনী কলেজের শিক্ষার্থী বাবর
সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরগণেশ এলাকায় মাদ্রাসা শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার রুমার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েন চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার এলাকার এরশাদ উল্লাহ। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে মারধরের শিকার হন এই যুগল।
এ ঘটনায় এরশাদ উল্লাহর বাবা আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পরকীয়ায় আসক্ত ওই যুগলকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা ফেনী কলেজের শিক্ষার্থী শাহজালাল বাবরকে ১ নম্বর (প্রধান) আসামি করে মোট ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, কামরুন নাহার ও এরশাদ উল্লাহ সম্পর্কে আত্মীয়। এরশাদ উল্লাহ তাঁর বন্ধুদের নিয়ে কামরুন নাহারের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আসামিরা তাঁকে জোরপূর্বক কামরুন নাহারের ঘরে ঢুকিয়ে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে মারধর করে।
তবে ‘ফেনীর প্রান্তর’-এর অনুসন্ধানে উঠে আসা তথ্যের সঙ্গে মামলার এজাহারের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি গোপন ভিডিওতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে— কেউ এরশাদ উল্লাহকে জোর করে ওই ঘরে ঢুকিয়ে দেয়নি, বরং আগে থেকেই তিনি কামরুন নাহারের ঘরে অবস্থান করছিলেন। শুধু তাই নয়, কামরুন নাহার ও এরশাদ উল্লাহর মধ্যকার দীর্ঘদিনের পরকিয়া সম্পর্কের একাধিক প্রমাণ ও অন্তরঙ্গ ছবিও আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে।
জানা যায়, আটকের পর এরশাদ উল্লাহ ও কামরুন নাহারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে উৎসুক জনতা। কেউ কেউ এর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু প্রকৃত জড়িতদের চিহ্নিত না করে উল্টো পরকীয়ার মতো গর্হিত কাজে বাধা দেওয়ায় আক্রোশমূলকভাবে শাহজালাল বাবরকে প্রধান আসামি করে ফাঁসানো হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাশেম ‘ফেনীর প্রান্তর’কে জানান, “এরশাদ উল্লাহর বাবা শাহজালাল বাবরকে ১ নম্বর আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বাবরসহ এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এবং ঘটনার সঠিক তদন্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
এদিকে, আদালত এ মামলায় ইতোমধ্যে চারজনকে জামিন দিলেও শাহজালাল বাবরের জামিন নামঞ্জুর করেছেন। এ নিয়ে সচেতন মহলে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি রোষানলে পড়ে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়ে এবং জেল খাটতে হয়, তবে আগামীতে যুবসমাজ অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে নিরুৎসাহিত হবে। এতে সমাজে অবক্ষয় আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে কামরুন নাহারের স্বামী নুর আলম বলেন, “আমার স্ত্রী আমার ঘরে পরপুরুষকে নিয়ে এলে আমার বাড়ির লোকজন তাঁদের হাতেনাতে আটক করে। এরপর বহিরাগত উৎসুক মানুষজন বাড়িতে জড়ো হতে থাকে। উৎসুক মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাঁদের গায়ে হাত তোলে। তবে এ ঘটনায় আমার বাড়ির কোনো নিরপরাধ সদস্যকে যেন না ফাঁসানো হয়, সে বিষয়ে আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”







