পরশুরামে গণধর্ষণের প্রোপাগান্ডা: নেপথ্যে অনৈতিক কাজের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, আটক ২
পরশুরামে গণধর্ষণের প্রোপাগান্ডা: নেপথ্যে অনৈতিক কাজের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ, আটক ২
ফেনীর পরশুরামে এক নারীর পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গণধর্ষণ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধান ও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ঘটনার আসল সত্য। ঘটনাটি গণধর্ষণ নয়, বরং অনৈতিক কাজের পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ করেছিলেন ওই নারী।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় মাটিরাঙ্গার বাসিন্দা মধ্যবয়সী এক নারীকে পরশুরামের সিএনজি লাইনম্যান ইমন তার বন্ধু ইসমাইল হোসেন শুভর ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। শুভ পরিবারসহ পরশুরাম সরকারি কলেজের পাশে থাকতেন। পরে রাত ১১টার দিকে কোলাপাড়া যুগীগ্রামের একটি ভাড়া কক্ষে ওই নারীকে নিয়ে যান ইমন।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারী পরশুরাম থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, ইসমাইল হোসেন শুভর স্ত্রী লিমা আক্তারের সাথে তার পূর্ব যোগাযোগ ছিল এবং লিমার মাধ্যমেই তিনি ইমনের কাছে আসেন। খদ্দেরের কাছে তার ১৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে এবং সেই টাকা উদ্ধার পেলেই তিনি চলে যাবেন। তিনি গণধর্ষণের কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালালে অভিযুক্ত সিএনজি লাইনম্যান ইমন গা ঢাকা দেয়। তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ শুভ ও তার স্ত্রী লিমা আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার বিকেলে লিমা আক্তার ওই নারীকে ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করলে তিনি থানায় অভিযোগ না তুলে নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আটক লিমা আক্তারের মা তাহেরা বেগম ফেনী শহরের মাস্টার পাড়ায় দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত। সেই সূত্র ধরেই তিনি ইমনের কাছে ওই নারীকে পাঠিয়েছিলেন।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুল ইসলাম জানান, খদ্দেরের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় ওই নারী থানায় এসেছিলেন। ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পলাতক লাইনম্যান ইমনকে গ্রেপ্তার এবং আটককৃতদের যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এই অনৈতিক চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






