ইসলামের আলোকে- “সন্তানকে যেভাবে অসৎ সঙ্গ থেকে বিরত রাখতে পারেন”
কিশোর বয়সে সন্তানকে ঘিরে মা-বাবার দায়িত্ব, সন্তানের কর্তব্য ও সৎ সঙ্গের গুরুত্ব
কিশোর বয়স—মানুষের জীবনের এমন একটি সময়, যখন একটি সন্তান শৈশব পেরিয়ে ধীরে ধীরে নিজের পরিচয়, স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভাবতে শুরু করে। এই বয়সে সে যেমন নতুন কিছু শিখতে চায়, তেমনি বন্ধু, সামাজিক পরিবেশ, মোবাইল, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট থেকেও গভীরভাবে প্রভাবিত হয়।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর অপরাধ, শিশু নিখোঁজ এবং তরুণদের নানা ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ শিশুর নিখোঁজের জিডি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তাদের অধিকাংশ ফিরে এলেও ১ হাজার ৯৭০ জন তখনও অনুপস্থিত ছিল। পুলিশের যাচাইয়ে পারিবারিক অশান্তি, অভিমান, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে কিশোর অপরাধের ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবের কথাও উঠে এসেছে।
এই বাস্তবতায় ইসলাম আমাদের শুধু সন্তানকে শাসন করার কথা বলে না; বরং সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, তাকে বোঝা, সঠিক শিক্ষা দেওয়া এবং ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়।
১. সন্তান আল্লাহর দেওয়া আমানত
সন্তান শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ নয়; ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান একটি আমানত। তাই তার খাবার, পোশাক, শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ঈমান, চরিত্র ও নৈতিকতার বিষয়টিও অভিভাবকের দায়িত্বের অংশ।
আল্লাহ বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।”
—সূরা আত-তাহরিম: ৬
এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সন্তানকে শুধু দুনিয়ার সফলতার জন্য প্রস্তুত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাকে আখিরাতের জন্যও প্রস্তুত করতে হবে।
২. কিশোর বয়সে সন্তানকে শুধু শাসন নয়, বোঝা প্রয়োজন
কৈশোরে সন্তান অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। তার নিজের মতামত তৈরি হয়, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাড়ে এবং সে অনেক সময় মা-বাবার চেয়ে বন্ধুদের কাছে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
এ সময় সন্তান কোনো ভুল করলে প্রথমেই অপমান, গালাগাল বা কঠোর শাস্তির পথ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে তার সঙ্গে কথা বলা জরুরি।
মা-বাবার উচিত—
- সন্তান কী ভাবছে তা মন দিয়ে শোনা।
- তার বন্ধুদের সম্পর্কে জানা।
- স্কুল, কোচিং ও বাইরে তার চলাফেরা সম্পর্কে খোঁজ রাখা।
- মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল সীমা তৈরি করা।
- তার সমস্যাকে ছোট করে না দেখা।
- ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া।
- নিজের আচরণ দিয়ে তাকে আদর্শ দেখানো।
- নামাজ, কোরআন ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি করা।
কারণ যে সন্তান নিজের কথা ঘরে বলতে পারে না, সে অনেক সময় নিজের সমস্যার সমাধান বাইরে খুঁজতে শুরু করে।
৩. লুকমান (আ.)-এর উপদেশ—সন্তান পালনের অসাধারণ মডেল
সন্তানের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়—কোরআনে এর একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত রয়েছে লুকমান (আ.)-এর উপদেশে।
তিনি সন্তানকে কঠিন ভাষায় অপমান না করে ভালোবাসার সম্বোধনে বলেছিলেন—
يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
“হে আমার প্রিয় সন্তান! আল্লাহর সঙ্গে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।”
—সূরা লুকমান: ১৩
এরপর লুকমান (আ.) সন্তানকে নামাজ, সৎকাজ, অসৎকাজ থেকে বিরত থাকা, ধৈর্য, বিনয় ও সুন্দর আচরণের শিক্ষা দেন—সূরা লুকমানের ১৩ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতে যার ধারাবাহিক বর্ণনা রয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—সন্তানকে ভালো করার জন্য শুধু নির্দেশ দিলেই হয় না; যুক্তি, ভালোবাসা, ধৈর্য ও ধারাবাহিক শিক্ষা প্রয়োজন।
৪. সন্তানের মোবাইল ব্যবহারে নজরদারি মানে গুপ্তচরবৃত্তি নয়
আজকের বাস্তবতায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। বরং সন্তানকে শেখাতে হবে কীভাবে প্রযুক্তি নিরাপদ ও ভালো কাজে ব্যবহার করতে হয়।
মা-বাবা জানতে পারেন—
- সন্তান কী ধরনের ভিডিও দেখে?
- কার সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করে?
- রাত জেগে কারও সঙ্গে কথা বলে কি না?
- অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করছে কি না?
- অনলাইন বন্ধুত্ব তার আচরণে পরিবর্তন আনছে কি না?
- পড়াশোনা, নামাজ ও পারিবারিক সময়ের ওপর মোবাইলের প্রভাব পড়ছে কি না?
তবে নজরদারির পাশাপাশি বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করাও জরুরি। সন্তান যেন বিপদে পড়লে প্রথমে মা-বাবাকেই বলতে পারে।
৫. সঙ্গ মানুষকে বদলে দেয়
কৈশোরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বন্ধু নির্বাচন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ভালো ও খারাপ সঙ্গীর উদাহরণ দিয়েছেন আতর বিক্রেতা ও কামারের হাপরের সঙ্গে। ভালো সঙ্গীর কাছ থেকে সুগন্ধি পাওয়া যায়, আর খারাপ সঙ্গীর কারণে কাপড় পুড়ে যেতে পারে অথবা দুর্গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।
—সহিহ বুখারি: ২১০১
অর্থাৎ মানুষ শুধু বন্ধুর কাছ থেকে সরাসরি কোনো কাজ শেখে না; তার ভাষা, চিন্তা, অভ্যাস, পোশাক, বিনোদন, রুচি ও মূল্যবোধও ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে পারে।
৬. কীভাবে অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করবে?
কোনো কিশোর যদি বুঝতে পারে তার বন্ধুরা তাকে নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, মিথ্যা বলতে শেখাচ্ছে, অশ্লীল কনটেন্টে অভ্যস্ত করছে, ধূমপান বা মাদক গ্রহণে উৎসাহ দিচ্ছে কিংবা মারামারি ও অপরাধে জড়াচ্ছে—তাহলে সেই সম্পর্ক থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসা জরুরি।
এর জন্য কয়েকটি বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া যায়—
প্রথমত: নিজের কাছে প্রশ্ন করা—“এই বন্ধুত্ব আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?”
দ্বিতীয়ত: যে বন্ধু নিয়মিত গুনাহ বা অন্যায় কাজে উৎসাহ দেয়, তার সঙ্গে একান্ত সময় ও নির্ভরশীলতা কমানো।
তৃতীয়ত: ভালো ছাত্র, ভদ্র, দায়িত্বশীল ও দ্বীনদার তরুণদের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করা।
চতুর্থত: মসজিদ, ইসলামী শিক্ষা, খেলাধুলা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া।
পঞ্চমত: শুধু “খারাপ বন্ধু ছেড়ে দাও” নয়—তার জায়গায় ভালো বিকল্প বন্ধু ও পরিবেশ তৈরি করা।
কারণ খারাপ সঙ্গ ছেড়ে একাকী হয়ে পড়লে আবার পুরোনো পরিবেশে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
৭. সৎ সঙ্গের উপকার কী?
সৎ বন্ধু একজন কিশোরকে—
- নামাজ ও ইবাদতে উৎসাহিত করতে পারে।
- পড়াশোনায় মনোযোগী করতে পারে।
- খারাপ কাজ থেকে সতর্ক করতে পারে।
- ভুল করলে সংশোধন করতে পারে।
- বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারে।
- আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
- সময়ের সঠিক ব্যবহার শেখাতে পারে।
- ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করতে সাহায্য করতে পারে।
অর্থাৎ ভালো বন্ধু শুধু আনন্দের সঙ্গী নয়; সে চরিত্র গঠনের সহযাত্রী।
৮. কিয়ামতের দিন খারাপ বন্ধুত্বের আফসোস
কোরআনে এমন একজনের কথা বলা হয়েছে, যে কিয়ামতের দিন আফসোস করে বলবে—
يَا وَيْلَتَىٰ لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا
“হায় আমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম!”
—সূরা আল-ফুরকান: ২৮
পরের আয়াতে বলা হয়েছে—
لَقَدْ أَضَلَّنِي عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ إِذْ جَاءَنِي
“আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিচ্যুত করেছিল।”
—সূরা আল-ফুরকান: ২৯
এই আয়াত কিশোরদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—বন্ধু নির্বাচন সাময়িক আনন্দের বিষয় নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যৎ জীবন ও আখিরাতকেও প্রভাবিত করতে পারে।
৯. মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব
শুধু মা-বাবার দায়িত্বের কথা বললে আলোচনা অসম্পূর্ণ থাকবে। ইসলাম সন্তানের ওপরও মা-বাবার প্রতি বড় দায়িত্ব দিয়েছে।
আল্লাহ বলেন—
وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا
“তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তিনি ছাড়া কারও ইবাদত করবে না এবং মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করবে।”
—সূরা আল-ইসরা: ২৩
পরের আয়াতে আল্লাহ বলেন—
وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
“আর বলো, হে আমার রব! তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।”
—সূরা আল-ইসরা: ২৪
তাই কিশোর সন্তানের দায়িত্ব হলো—
- মা-বাবার সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলা।
- অযথা তর্ক ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।
- তাদের কষ্ট না দেওয়া।
- নিজের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো ভদ্রভাবে জানানো।
- ঘরের কাজে সহযোগিতা করা।
- মা-বাবার জন্য দোয়া করা।
- তাদের বার্ধক্য ও দুর্বলতার সময় পাশে থাকা।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—কার সঙ্গে উত্তম আচরণের সবচেয়ে বেশি অধিকার? তিনি তিনবার “তোমার মা” বলেছেন; এরপর বলেছেন, “তোমার বাবা।”
—সহিহ বুখারি: ৫৯৭১
১০. তবে মা-বাবার আনুগত্যেরও সীমা আছে
ইসলাম মা-বাবার সম্মান করতে বলেছে, কিন্তু আল্লাহর অবাধ্যতার ক্ষেত্রে কারও আনুগত্য করতে বলেনি।
লুকমানের উপদেশের ধারাবাহিকতায় আল্লাহ বলেন, মা-বাবা যদি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করার জন্য চাপ দেন, সে ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করা যাবে না; তবে দুনিয়ায় তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে।
—সূরা লুকমান: ১৫
অর্থাৎ ইসলামের শিক্ষা হলো—মা-বাবার সম্মান থাকবে, কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
১১. কিশোর সন্তানকে ভালো করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়
একটি সন্তান শুধু পরিবারের মধ্যে বেড়ে ওঠে না। তার ওপর পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক, মসজিদ, সমাজ এবং ডিজিটাল জগত—সবকিছুর প্রভাব পড়ে।
তাই সন্তানকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজন—
পরিবারের ভালোবাসা + ইসলামী শিক্ষা + ভালো বন্ধু + নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ + দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহার।
সাম্প্রতিক কিশোর অপরাধ নিয়ে বিশ্লেষণেও পরিবার, শিক্ষা ও বৃহত্তর সামাজিক পরিবেশের প্রভাবের কথা উঠে এসেছে।
১২. মা-বাবার জন্য ৭টি বাস্তব করণীয়
১. প্রতিদিন সন্তানের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলুন।
শুধু পড়াশোনা বা ফলাফল নিয়ে নয়—তার অনুভূতি নিয়েও কথা বলুন।
২. তার বন্ধুদের চিনুন।
বন্ধুকে অপমান না করে তার বন্ধুত্বের প্রভাব বুঝুন।
৩. মোবাইল ব্যবহারে পারিবারিক নিয়ম করুন।
কোথায়, কখন এবং কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট নিয়ম থাকা দরকার।
৪. নামাজ ও কোরআনের পরিবেশ তৈরি করুন।
শুধু সন্তানকে নামাজ পড়তে বলবেন না; সম্ভব হলে নিজেরাও তার সঙ্গে নামাজ পড়ুন।
৫. ভুল করলে কথা বলুন।
প্রতিটি ভুলের জবাব শুধু শাস্তি নয়; কখনো কখনো একটি দীর্ঘ আলাপও হতে পারে।
৬. সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করুন।
শুধু ভুল ধরলে সন্তান একসময় মনে করতে পারে—“আমি যা-ই করি, বাবা-মায়ের কাছে আমি খারাপ।”
৭. নিজেরাই উদাহরণ হন।
সন্তানকে মিথ্যা না বলতে বলে বাবা যদি ফোনে মিথ্যা কথা বলেন, তাহলে উপদেশের প্রভাব কমে যায়। চরিত্র গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী শিক্ষা হলো অভিভাবকের নিজের চরিত্র।
১৩. কিশোরদের জন্য ৭টি বার্তা
১. সব বন্ধু বন্ধু নয়—কেউ কেউ ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে।
২. যে বন্ধু তোমাকে নামাজ, পড়াশোনা ও ভালো কাজ থেকে দূরে সরায়, তার ব্যাপারে সতর্ক হও।
৩. যে বন্ধু তোমার ভুলের প্রশংসা করে, সে প্রকৃত বন্ধু নয়।
৪. যে বন্ধু তোমার ভুল ধরিয়ে দেয় এবং ভালো হতে উৎসাহ দেয়, তাকে মূল্য দাও।
৫. রাগ করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেও না।
৬. কোনো সমস্যা হলে মা-বাবা, শিক্ষক, অভিভাবক বা বিশ্বস্ত বড় কারও সঙ্গে কথা বলো।
৭. মনে রেখো—কৈশোরের একটি ভুল সিদ্ধান্ত কখনো কখনো পুরো জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।
শেষ কথা
সন্তানকে শুধু ভালো স্কুলে পড়ালেই ভালো মানুষ বানানো যায় না। দামি মোবাইল, ভালো পোশাক কিংবা উন্নত জীবনযাত্রাও চরিত্রের নিশ্চয়তা দেয় না।
সন্তানের প্রয়োজন সময়, ভালোবাসা, শাসনের সঙ্গে প্রজ্ঞা, ইসলামী শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ এবং সৎ সঙ্গ।
আর সন্তানেরও মনে রাখতে হবে—মা-বাবা তার জীবনের বোঝা নন; তারা তার জন্য আল্লাহর দেওয়া বড় একটি নিয়ামত। তাই তাদের সম্মান করা, তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা এবং তাদের দোয়া নেওয়া একজন মুসলিম সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আজকের জুমায় আমরা শুধু নিজের সন্তানের জন্য নয়, আমাদের চারপাশের প্রতিটি কিশোরের জন্যও দোয়া করতে পারি—
হে আল্লাহ, আমাদের সন্তানদের ঈমানদার, চরিত্রবান ও নেককার বানিয়ে দিন। তাদের অসৎ সঙ্গ, অশ্লীলতা, মাদক, অপরাধ ও সব ধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। তাদের সৎ বন্ধু দান করুন এবং মা-বাবার প্রতি সদাচারী বানান। আমিন।
–আনোয়ার হোসাইন বিন আহমেদ (সম্পাদক, ফেনীর প্রান্তর)







