রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
ফেনী মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট ক্লাবের আত্মপ্রকাশ আজ ৭ নভেম্বর: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস সোনাগাজীতে বিএনপি নেতা সোহেলসহ চারজনের ওপর সশস্ত্র হামলা, মোটরসাইকেল-টাকা লুট পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন দাগনভুইয়ার কৃতি সন্তান হাসান আহমেদ ফেনীতে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কী ঘটেছিল? ৪ নভেম্বর থেকে চার দিন সারা দেশে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে ফেনীতে শতভাগ পাশ দুই মাদ্রাসায়, শতভাগ ফেল দুই কলেজে এইচএসসি ও আলিমের ফলাফলে ফেনীতে এগিয়ে মাদ্রাসা, কলেজে ভরাডুবি আজ প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, ঘরে বসেই যেভাবে দেখবেন ফেনীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ, ১০ মাসে আক্রান্ত ১ হাজার ৩২২ জন

ফেনী ইউনিভার্সিটিতে BoT চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে ‘শাটডাউন’

মো. সিরাজুল হক টিপু, ফেনী: / ১০০২ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেনী ইউনিভার্সিটিতে BoT চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে ‘শাটডাউন’

ফেনী ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (BoT) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) নাসির উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। এ সময় সেখানে ‘দফা এক দাবি এক, BoT চেয়ারম্যানের পদত্যাগ’ লেখা ব্যানার টানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বর্তমান BoT চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান।

টিউশন ফি ও পরীক্ষা নিয়ে অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আর্থিক সমস্যার কারণে সময়মতো টিউশন ফি পরিশোধ করতে না পারলে পরীক্ষায় অংশ নিতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এ ধরনের নীতির শিক্ষার্থীবান্ধবতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক নোটিশে মিডটার্ম পরীক্ষার আগে টিউশন ফি পরিশোধ ও পেমেন্ট ভেরিফিকেশনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তারা।

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়েও অসন্তোষ

আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দায়িত্ব পালন করা ও অভিজ্ঞ কয়েকজন শিক্ষক ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে কর্মরত কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অতীতে অন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও আপত্তি রয়েছে বলে জানান আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, সাবেক কর্মস্থলে নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাদের কাউকে কাউকে ফেনী ইউনিভার্সিটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।

উপাচার্য নিয়োগের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন

উপাচার্য নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাবিত নাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত তিন ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি ওঠার পর ওই প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছিল। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জমি-সংক্রান্ত মামলা ও স্থায়ী ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি-সংক্রান্ত মামলা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশিত মাত্রায় উদ্যোগ নেয়নি। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার কাছেও গিয়েছিলেন বলে জানান।

স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়েও আন্দোলনকারীরা বলেন, এর অগ্রগতিকে কেবল BoT চেয়ারম্যানের নেতৃত্বের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; BoT-এর অন্যান্য সদস্যদেরও এতে ভূমিকা রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের মূল ভবনের নির্মাণকাজ গত ১৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে সেখানে সাততলা একটি ভবন নির্মাণ করা হবে।

ক্যাম্পাস সুবিধা ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে অভিযোগ

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ, সামান্য পরিমাণ বকেয়ার জন্য বড় অঙ্কের জরিমানা, বিকেলের পর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও খেলাধুলার সুযোগ, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

ফেনী ইউনিভার্সিটিতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন না থাকা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাদের। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে একটি কার্যকর অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

আগের আন্দোলনের প্রসঙ্গ

আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, অতীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় আন্দোলন দমনে বিভিন্ন মহলে তদবির বা লবিং করা হয়েছিল।

তাদের ভাষ্য, এর আগেও BoT চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল। সে সময় চেয়ারম্যান অসুস্থ থাকায় সুস্থ হয়ে ফিরে এসে সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন—এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। তবে পরবর্তীতে প্রত্যাশিত সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতপার্থক্য তৈরি হলে মামলা, গোয়েন্দা সংস্থার ভয় বা চাপ প্রয়োগের অভিযোগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা উচিত।

আন্দোলনকারীরা বলেন, ফেনী ইউনিভার্সিটি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, অভিভাবক ও ফেনীর মানুষের প্রতিষ্ঠান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!