রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
ঘর ভাড়া পরিশোধে ৫০০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি, ২ সন্তান নিয়ে রেললাইনে রেহানা স্বামীর পকেট থেকে না বলে টাকা নেওয়া কি স্ত্রীর জন্য বৈধ? ইসলাম কী বলছে? গ্যাস সংকট, লোডশেডিং, ভূতুড়ে বিল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি আলোচনায় ফেনী সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ওরাকা বিন বাশারের তিন গান ছাগলনাইয়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আরাফাত হোসেন (২৫) নামক এক ইলেকট্রনিক মিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মাসব্যাপী ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ আন্তঃথানা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করল ফেনী জেলা ছাত্রশিবির জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল দাগনভূঞায় অস্বাভাবিক পৌরকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে স্থানীয়দের মানববন্ধন সোনাগাজীতে অতিরিক্ত সিএনজি ভাড়া আদায়ে প্রশাসনের অভিযান, ৪ চালককে জরিমানা ছাত্রলীগ নেতা নোমান হাবীবের নেতৃত্বে মিছিলের পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে ফেনীতে এসপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

ঘর ভাড়া পরিশোধে ৫০০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি, ২ সন্তান নিয়ে রেললাইনে রেহানা

আনোয়ার হোসাইন বিন আহমেদ / ২৩ Time View
Update : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত

দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গা। ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর মর্মবেদনা। অসহায় রেহানার পাশে দাঁড়িয়ে তার দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা খাতুন আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ঘরভাড়া দিতে না পারায় একপর্যায়ে সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। এরপর সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার দুর্দশা দেখে প্রতিবেশীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও আর্থিক অনটনে তা আর পূর্ণতা পায়নি। মাথার ওপর টিন আর চারপাশে বেড়া না থাকায় তীব্র রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই অনাবৃত কাঠামোর নিচে দুই সন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেছেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করলে কান্নাকাটি করে জানায়, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে সে তার চুল বিক্রি করেছে।

রহিম শেখ বললেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, যেন দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানালেন, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো সম্ভব। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও মানবিক ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তার সন্তানদের নিয়ে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। সেখানেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। আমি সরকারের কাছে একটু নিরাপদে থাকার জন্য সহায়তার আকুতি জানাচ্ছি।’

অসহায় এই পরিবারটির দীর্ঘদিনের অবসান ঘটাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!