এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন ১,৮৩৭ টাকা
এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন ১,৮৩৭ টাকা
ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ২১ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
এর ফলে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়। এতদিন এই সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। নতুন দাম রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
এর আগে গত মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৩ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে এবার এক লাফে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।
বিইআরসি জানিয়েছে, বাজারে বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার রয়েছে। প্রতি কেজির নতুন দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করায় সেই অনুপাতে অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও সমন্বয় হবে। এর আগে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা।
বাজারে বাড়তি দামের অভিযোগ
বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশে গ্যাসের সংকটের কারণে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ফলে দাম বৃদ্ধির নতুন সিদ্ধান্তে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে এলপিজির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। ওই মাসের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করলে দেশে জুন ও জুলাই—টানা দুই মাস এলপিজির দাম কমানো হয়। পরবর্তী দুই মাসে দাম ওঠানামার মধ্যে থাকলেও চলতি মাসে আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি করা হলো।
অটো গ্যাসের দামও বেড়েছে
গৃহস্থালির এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অটো গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। আগে এই দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকা রয়েছে।
যেভাবে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে দেশে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এসব উপাদানের আন্তর্জাতিক মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো। এ মূল্যকে ‘সৌদি কার্গো প্রাইস’ বা ‘সিপি’ বলা হয়।
সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য হিসেবে ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। পাশাপাশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের চালানমূল্য এবং মাসজুড়ে ডলারের গড় বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসের জন্য এলপিজির নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।







