এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা
এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা
সৎ ভাইসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা | অভিযোগ তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ আদালতের
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে তার গলায় রামদা ধরে বসতবাড়িসহ সম্পত্তির দলিল জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে তার তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) দিরাইয়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে মামলাটি করা হয়। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
যারা আসামি
মামলার প্রধান আসামিরা হলেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁওয়ের আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁওয়ের ছয়ফুল চৌধুরী, দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, তাজুল ইসলাম এবং মোহরার মমতাজ বেগম।
অসুস্থতার সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম থাকার সুযোগ নিয়ে আসামিরা তার দুই স্ত্রী ও সন্তানদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তিনি এতে রাজি হননি।
একপর্যায়ে আসামিরা তার গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে দলিলে স্বাক্ষর করান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাধা দিতে গিয়ে স্ত্রীকেও হুমকি
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী ওই ঘটনায় বাধা দিতে গেলে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ সময় সংসদ সদস্যের এক সমর্থক ওয়াকিব হাসান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সংসদ সদস্যের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী পারভিন আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
‘গলায় দা ধরে বাড়ি লিখে নেওয়া হয়’
বাদী পারভিন আক্তার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রোক করার পর গুরুতর অসুস্থ থাকাকালে তার গলায় দা ধরে বসতবাড়িটি লিখে নেওয়া হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
পারভিন আক্তারের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে তার স্বামী তাকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) দেওয়ার পর তিনি আদালতের আশ্রয় নেন।
অভিযোগ অস্বীকার সৎ ভাইয়ের
তবে গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।
তিনি বলেন, ‘গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলার বিষয়টি বিস্তারিত জেনে আমরা আইনিভাবেই তার মোকাবিলা করব।’
তদন্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ
দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এরপর ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নাছির উদ্দিন চৌধুরী দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের মধ্যে সৎ ভাইদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সম্পত্তি হস্তান্তরের এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।







