বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
ফুলগাজীতে ২৭০ ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ১০ পুরোহিতকে সম্মানি দেবেন প্রধানমন্ত্রী এসএসসির মূল ফলাফলে ফেল, পুনর্নিরীক্ষণে জিপিএ-৫ পেলেন সোনাগাজীর মেধাবী শিক্ষার্থী আসাদ ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, চলতি বছর আক্রান্ত ৩৫০ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সোনাগাজীতে যুবদল কর্মীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ফেনী শহরে ডেঙ্গুর বিস্তার, সবচেয়ে বেশি রোগী ডাক্তারপাড়া ও পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টারে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত কৃষকদল নেতা আমিনুল বহিষ্কার সর্বস্ব হারিয়ে ছেলেকে একবার কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখতে চান নুসরাত হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া মামুনের মা ফেনীতে অবৈধ অনলাইন ট্রেডিং চক্রের মূলহোতা ‘এফএক্স আদি’ গ্রেপ্তার: ২টি গাড়িসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার ফেনীতে ৪০০ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা ফেনীতে গুঁড়ো করার মেশিনে আটকা পড়ে মিল মালিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, চলতি বছর আক্রান্ত ৩৫০

আনোয়ার হোসাইন বিন আহমেদ / ৮০ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, চলতি বছর আক্রান্ত ৩৫০

আগস্টে ১৪৫ জন, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনেই ১০ শনাক্ত; সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফেনী সদর উপজেলায়


ফেনীতে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫০ জন। এর মধ্যে শুধু গত আগস্ট মাসেই নতুন করে ১৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন।

ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদনে জেলার ছয় উপজেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ছয় উপজেলায় মোট ১০০ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ জনসহ মোট ১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

আগস্টে আক্রান্ত ১৪৫, সেপ্টেম্বরে এক দিনেই ১০

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব বলছে, আগস্ট মাসে ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ওই মাসে জেলার ছয় উপজেলায় মোট ১৪৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগের মাস জুলাইয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭২ জন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই নতুন করে ১০ জন আক্রান্ত হওয়ায় চলতি মাসে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৪ জন—প্রতিবেদনে উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫০ জন।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ফেনীতে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন। ফলে গত বছরের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের এই সময়েই আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৯ জন বেশি।

ফেনী সদরে আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলায়। চলতি বছরে এ উপজেলায় মোট ২৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬ জন এবং চলতি মাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় ৮৮ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয় এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত দাগনভূঞা উপজেলায়। চলতি বছরে সেখানে মোট ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত মাসে ১১ জন এবং চলতি মাসে ৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জনের পরীক্ষা করা হয়; সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন আক্রান্ত না থাকলেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলায় চলতি বছরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ জন। এর মধ্যে গত মাসে ১৪ জন এবং চলতি মাসে ৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

ছাগলনাইয়া উপজেলায় চলতি বছরে মোট ২১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মাসে ১১ জন এবং চলতি মাসে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

পরশুরাম উপজেলায় চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ জন। এর মধ্যে গত মাসে ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং চলতি মাসে এখন পর্যন্ত নতুন আক্রান্তের তথ্য নেই।

অন্যদিকে ফুলগাজী উপজেলায় চলতি বছরে মোট ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মাসে ৯ জন এবং চলতি মাসে ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি ২৬৩, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪৩

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে ২৪৩ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ফেনী সদরেই সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছেন। ফেনী সদর এলাকায় বর্তমানে ১৭ জন, দাগনভূঞায় ১ জন এবং ছাগলনাইয়ায় ২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোনাগাজী, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি নেই।

স্বস্তির বিষয় হলো, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

পৌরসভার অ-ব্যবস্থাপনা ই সবচেয়ে বেশি দায়ি

ফেনী শহরে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই সময়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানির কারণে মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে থাকে। কোথাও কোথাও সেই পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় মশার প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা প্লাস্টিকের বোতল, পরিত্যক্ত পাত্র, পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্যে পানি জমে থাকছে। এসব ছোট ছোট পানির আধার এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

নগরবাসীর মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মাঝে মধ্যে মশক নিধন কার্যক্রম চালালেই হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ—সবগুলো কার্যক্রম একসঙ্গে চালাতে হবে।

একই সঙ্গে নাগরিকদেরও বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তবে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় ফেনী পৌরসভাকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলে দাবি সচেতন মহলের।

ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ৫০০ কিট মজুত

ডেঙ্গু শনাক্তকরণে জেলার ছয় উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫০০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত রয়েছে।

এর মধ্যে ফেনী সদরে ৫৬৬টি, দাগনভূঞায় ১০টি, সোনাগাজীতে ২১৪টি, ছাগলনাইয়ায় ৬৯টি, পরশুরামে ৪১৬টি এবং ফুলগাজীতে ২২৫টি কিট মজুত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ফেনী সদর উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অনেক বেশি। আগস্ট মাসে আক্রান্তের বড় ধরনের বৃদ্ধি এবং সেপ্টেম্বরের শুরুতেই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় সামনে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে। তাই বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র: ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ডেঙ্গু পরিস্থিতি।

সহায়তায়ঃ সিরাজুল হক টিপু (সিনিয়র রিপোর্টার, ফেনীর প্রান্তর)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!