রাতের আঁধারে সাত গরু চুরি, ধারাবাহিক ঘটনায় আতঙ্কে ফুলগাজীর কৃষক-ব্যবসায়ী
রাতের আঁধারে সাত গরু চুরি, ধারাবাহিক ঘটনায় আতঙ্কে ফুলগাজীর কৃষক-ব্যবসায়ী
ফেনীর ফুলগাজীতে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে কৃষক ও গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ মুন্সীরহাট ইউনিয়নের দরবারপুরে একটি বাড়ি থেকে সাতটি গরু চুরির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে মুন্সীরহাট ইউনিয়নের দরবারপুর গ্রামের তাহের চৌধুরী বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির তাহেরের ছেলে কামরুল ইসলাম ও গোলাম কিবরিয়া গরুর ব্যবসা করতেন। সেখানে রাখা ১০টি গরুর মধ্যে সাতটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে তিনটার সময় চোরেরা তালা কেটে গরুগুলো নিয়ে যায়।
ফুলগাজীতে গরু চুরির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোসাইপুর গ্রামে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন তোফায়েল আহমদের বাড়ি থেকে একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই বাড়িতে থাকা তিনটি গরুর মধ্যে একটি চুরি হয়।
এ ছাড়া এর আগে উপজেলার ঘনিয়ামোড়া এলাকায় এক রাতে তিনটি বাড়ি থেকে ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির এসব ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় গ্রামাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, রাতের বেলায় বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে গরু চুরির ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত তদন্ত জোরদার করা প্রয়োজন। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় চোরচক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরির ঘটনা বন্ধে দৃশ্যমান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকলে কৃষক ও গরু ব্যবসায়ীরা আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে চুরি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে তৎপরতা এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সর্বশেষ দরবারপুরে সাতটি গরু চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগ করেছেন। ধারাবাহিক গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের উদ্বেগ নিরসনে পুলিশের টহল জোরদার, ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং চোরচক্র শনাক্তে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানান, ভোরে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করেছে। এ সময় আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। চুরি যাওয়া গরুগুলো যেসব সড়ক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে, সেসব সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারব।’






