সোনাগাজী সান জেনারেল হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
সোনাগাজী সান জেনারেল হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
পেশাগত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষন নেই এমন লোকজন দিয়ে ল্যাব ওটি এক্সরে ও ফার্মেসী পরিচালনা এবং হাসপাতালের লাইসেন্স সহ অন্যান্য কাগজপত্র নবায়ন না থাকায় সোনাগাজী সান জেনারেল হাসপাতাল কে ৫০ হাজার টাকা জরিমান করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এসময় তাদের দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে ও কাগজপত্র নবায়ন করতে চুড়ান্ত ভাবে সময় বেঁধে দেয়া হয়।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভূক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সান জেনারেল হাসপাতালে ২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিগত ১০জুন তারিখে প্রথম অভিযান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ মিয়া এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ ফারহানা চৌধুরী এর নেতৃত্বে বিগত ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানের সময় হাসপাতালটির লাইসেন্স সহ অন্যান্য কাগজপত্র নবায়ন ছিলনা এবং ল্যাব ওটি এক্সরে ও স্যাম্পল কালেকশন এবং নার্সিং বিভাগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা থাকা দক্ষ জনবল পাওয়া যায়নি। এসময় সান জেনারেল হাসপাতালের এমডি আলাউদ্দিন ক্ষমা চেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল ও কাগজপত্র ঠিক করার জন্য সময় প্রার্থনা করলে এক মাস সময় দেয়া হয়। এবং অভিযানের বিষয়ে সিভিল সার্জন কে লিখিত ভাবে অবগত করা হয়। উক্ত পত্রে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো তুলে ধরে ২০২৪-২৫ সালে হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন না দিতেও শুপারিশ করা হয়।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দপা অভিযানকালে দেখা যায় দক্ষ জনবল নিয়োগ ও হাসপাতালের লাইসেন্স সহ অন্যান্য কাগজপত্র নবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে ভর্তি রোগীর সেবার জন্য একজন পাশ করা নার্স ও পাওয়া যায়নি, এছাড়া অপেশাদার লোক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে স্যাস্পল কালেকশন এক্সরে সহ অন্যান্য সেবা দেয়া হচ্ছে। পরে হাসপাতালটিকে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং পুনরায় এক মাসের সময় দেয়া হয়।
উল্লেখ্য এর আগেও স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান কালে হাসপাতালটির ওটি ও ল্যাবের কার্য্যক্রম বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছিল। দেন-দরবার করে পুনরায় চালু করলেও সেবা কার্য্যক্রমের গতি বাড়েনি।
সান জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলা উদ্দিন অভিযানের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা দক্ষ জনবল নিয়োগ ও হাসপাতালের সমস্ত কাগজপত্র আপডেট করার জন্য কাজ শুরু করেছি। আসলে জেলার অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকের কাগজপত্র এবং জনবল ঠিক নেই, এটা শতভাগ সঠিক রাখা কঠিন বিষয়।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ অফিসার ডাঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শনকালে নানা অনিয়ম পাওয়ায় হাসপাতালটির ২০২৪-২৫ সালের লাইসেন্স নবায়ন না দিতে সুপারিশ করে সিভিল সার্জন মহোদয়ের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছি। কাগজপত্র এবং জনবলের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রচলিত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও এবং ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা টিএইচও ডাঃ ফারহানা চৌধুরী জানান, অভিযানকালে দেখা গেছে হাসপাতালটির দক্ষ জনবল নিয়োগ ও কাগজপত্র নবায়নের শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তাই ৫০হাজার টাকা জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়।







