এইচএসসি ও আলিমের ফলাফলে ফেনীতে এগিয়ে মাদ্রাসা, কলেজে ভরাডুবি
এইচএসসি ও আলিমের ফলাফলে ফেনীতে এগিয়ে মাদ্রাসা, কলেজে ভরাডুবি
ফেনী: উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে ফেনীতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে কলেজের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মাদ্রাসা। অন্যদিকে, কলেজগুলোতে পাশের হার তুলনামূলক কম। এ ছাড়া জেলার দুটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। তবে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় কোনো মাদ্রাসার নাম নেই।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ফেনী জেলার ৩৮টি মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৫৭৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ২০২ জন। পাশের হার ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৯ জন শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, জেলার ৪২টি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ৪ হাজার ৯৪০ জন। পাশের হার ৪৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। কলেজগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৮ জন শিক্ষার্থী। সংখ্যার হিসাবে কলেজগুলোতে জিপিএ-৫ বেশি হলেও পাশের হারে মাদ্রাসা এগিয়ে রয়েছে ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ পয়েন্টে।
দুটি কলেজে শতভাগ ফেল
এবারের ফলাফলে ফেনীর দুটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—বীকন মডেল কলেজ এবং বেগম সামছুন্নাহার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বীকন মডেল কলেজ থেকে সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেনি একজনও। অন্যদিকে, বেগম সামছুন্নাহার বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় তিনজন। তাদের মধ্যেও কেউ পাস করতে পারেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় জেলার কোনো মাদ্রাসার নাম নেই।
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পিছিয়ে ফলাফল
ফেনী জেলার তিনটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৫১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১৬০ জন। পাশের হার ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে কলেজের তুলনায় মাদ্রাসা এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাশের হার ৫০ শতাংশেরও নিচে। জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে এই পার্থক্য শিক্ষার মান ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।







