আজ ৭ নভেম্বর: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
দীর্ঘ ১৬ বছর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিবসটি, দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি
আজ ৭ নভেম্বর। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে। দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিত।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনীর একটি অংশের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই ঘটনায় সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা এবং সেনাসদস্যদের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। এদিন সেনাবাহিনীর ভেতরে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহে নিহত হন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফসহ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।
৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করে থাকেন। বিএনপি দিনটিকে সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি ক্ষমতার পালাবদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও আলোচিত।
দীর্ঘ ১৬ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হয়নি। ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৭ নভেম্বরকে পুনরায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দিবসটিকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং সরকারি ছুটি পুনর্বহাল করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। রাজধানী ঢাকায় বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো জানা, সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা এবং জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চেতনা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় নিয়ে পালিত হচ্ছে এবারের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস।







