বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
‘ফেনীর প্রান্তর’-এ সংবাদ প্রকাশের পর নবাবপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিভাগীয় পরিচালক জিয়া উদ্দিন হৃদয়ের সম্পাদনায় ফেনী সরকারি কলেজে প্রকাশিত ‘স্বপ্নচারী’ ❝সততা ও উন্নয়নের পথে অটল এক অধ্যায়ের সমাপ্তি অধ্যক্ষ প্রফেসর এনামুল হক খোন্দকার স্যারকে বিদায়❞ এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা, ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন ১,৮৩৭ টাকা দাগনভূঞায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন পরশুরামে প্রবাসীর ফাঁকা ঘরে প্রেমিককে ডেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিল এলাকাবাসী সোনাগাজী সান জেনারেল হাসপাতালে ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ফেনীতে বিএনপি-ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জামায়াতে যোগদান দাগনভূঞায় ভাষা শহীদ সালাম মেমোরিয়াল কলেজের নতুন ক্যাম্পাসের শুভ উদ্বোধন মালেশিয়ার অনুষ্ঠিত WSDG ২০২৬ ইন্টারন্যাশনাল রাউন্ড-এ বিশ্বে ৪র্থ স্থান। চার-চারটি পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন ফেনীর মনির ও তার দল “নোভাট্রিক্স”।

চিরকুটে সানির আকুতি—‘প্লিজ আমার বই চুরি করবেন না’ আমি কষ্ট পাই

আনোয়ার হোসাইন বিন আহমেদ / ৩১১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

চুরি হয়ে গেল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বই, চিরকুটে সানির আকুতি—‘প্লিজ আমার বই চুরি করবেন না’

ফেনী প্রতিনিধি: ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে ফেনী সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন কলেজটির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সানি মজুমদার। গত বছরের শেষদিকে উদ্বোধনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে। কেউ সেখানে বসে বই পড়তেন, কেউ অবসর সময় কাটাতেন, আবার কেউ কেউ বাড়িতে নিয়ে যেতেন বই।

তবে এই উদ্যোগের আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। অসাধু ব্যক্তিদের চুরিতে ইতোমধ্যে দুইবার পুরো বইয়ের তাক খালি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সানি। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তার উদ্যোগটিও পড়েছে বড় ধরনের ধাক্কায়।

সানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির তাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বই থাকত। দুই দফায় এসব বই চুরি যাওয়ায় তার প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তবুও থেমে যাননি সানি। নতুন করে আবারও নিজের টাকায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকার বই কিনে লাইব্রেরিতে রেখেছেন তিনি। তবে এবার বইয়ের সঙ্গে একটি চিরকুটও রেখেছেন। সেখানে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বই চুরি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

চিরকুটে সানি লিখেছেন, “আমি বিত্তশালী নই, ছোট একটি চাকরি করে নিজে পড়ালেখা করি আর আপনাদের জন্য বই কিনি। প্লিজ আমার বই চুরি করবেন না। আমি কষ্ট পাই।”

সানির এই উদ্যোগ মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি এবং অবসর সময়কে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল। উদ্বোধনের পর থেকেই কলেজের শিক্ষার্থীরা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটি ব্যবহার করছিলেন। ক্যাম্পাসে এমন একটি উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।

কিন্তু বই চুরির ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এমন একটি উন্মুক্ত উদ্যোগ কতটা নিরাপদ? একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার সুযোগ তৈরি হলেও সেটি রক্ষার দায়িত্ব কি শুধু উদ্যোগ গ্রহণকারীর?

সানির মতো একজন শিক্ষার্থী নিজের সীমিত সামর্থ্য থেকে বই কিনে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। সেখানে বারবার বই চুরি হওয়া শুধু তার আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং অন্য শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগও সংকুচিত করছে।

নতুন করে বই রাখার পর সানির ছোট্ট চিরকুটটি তাই কেবল বই চুরি না করার অনুরোধ নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর কষ্ট, ভালো উদ্যোগ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা এবং অন্যদের প্রতি আস্থার প্রকাশ।

এখন কলেজের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতাই পারে সানির এই উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে। বই চুরি না করে বরং বই পড়ে, অন্যকে পড়তে দিয়ে এবং লাইব্রেরিটির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করলেই সার্থক হবে তার এই প্রচেষ্টা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!