পরশুরামে ঘরের দরজা ভেঙে মায়ের লাশ উদ্ধার করলেন ছেলে
ঘরের দরজা ভেঙে মায়ের লাশ উদ্ধার করলেন ছেলে
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় নিজ বসতঘরের দরজা ভেঙে জাহেদা আক্তার (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গুথুমা মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে মরহুমার ছেলে
আফজাল হোসেন হৃদয় ঢাকা থেকে ছুটে এসে দরজা ভেঙে ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জাহেদা আক্তার ওই এলাকার মোহাম্মদ আবদুল মতিনের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। একমাত্র ছেলে চাকরির সুবাদে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করার কারণে বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন।
গত শনিবার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে দেখতে বাড়িতে এসেছিলেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে হৃদয় ঢাকায় চাকরি করেন।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, শনিবার রাতের কোনো একসময় তার মৃত্যু হতে পারে। এরপর প্রায় দুই দিন তিনি ঘরের ভেতরেই পড়ে ছিলেন। আশপাশে প্রতিবেশীদের উপস্থিতি না থাকায় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। সোমবার ফেনীতে একজন চিকিৎসকের কাছে জাহেদা আক্তারের সন্ধ্যা ৬টার সিরিয়াল ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
মরহুমার ছেলে আফজাল হোসেন হৃদয় জানান, গত রবিবার (১৬ আগস্ট) থেকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে যানজট পেরিয়ে বিকেল আনুমানিক ৪টায় বাড়ি পৌঁছে দেখতে পান ঘরের দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি দেওয়া। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মায়ের নিথর দেহ দেখতে পান। তার ধারণা, রাতের যেকোনো সময় ঘুমের মধ্যে মায়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন গুজবের প্রতিবাদ জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, “আমার মা শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। ঢাকা থেকে এসে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তার দাফনের ব্যবস্থা করেছি। মায়ের মৃত্যু নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি বা কোনো নেতিবাচক তথ্য ছড়াবেন না।”
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় দুইদিন ধরে তাকে ঘরের বাইরে না দেখার কারণে ধারণা করা হচ্ছে মৃত্যুটি কয়েক দিন আগেই হয়েছে। একই সাথে অসুস্থ একজন বৃদ্ধা বাড়িতে একা থাকার পরও সঠিক সময়ে খোঁজখবর নেওয়া উচিত ছিলো।
এ বিষয়ে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশ্রাফুল ইসলাম গণমাধ্যম কর্মীকে কে বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা আপত্তি না থাকায় মরদেহ তাদের কাছেই হস্তান্তরিত করা হয়। পরে পারিবারিকভাবে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।




