সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করলেন মোহাম্মদ কাউছার হামিদ পরশুরাম সীমান্তে ৪ জনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত, বিজিবির সতর্ক টহলে ব্যর্থ অপচেষ্টা চার বছরের বেতন ৫০ হাজার টাকা পেয়েই সন্তুষ্ট স্বজনরা, প্রিয়ার লা-শের জি’ম্মাদা’র হয়নি কেউ পরশুরাম সীমান্তে ৭ ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ কমিউনিটি ইম্প্যাক্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন ফেনীর সমাজকর্মী ও সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আদর মধ্যম স্বরাজপুর সমাজকল্যাণ সংগঠনের ২০২৬–২০২৮ সেশনের ২৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনে ৭টি সফল নরমাল ডেলিভারি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফেনীতে ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ মিছিল পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ফুলগাজীর সোলেমান, অর্থাভাবে বন্ধ উন্নত চিকিৎসা

চার বছরের বেতন ৫০ হাজার টাকা পেয়েই সন্তুষ্ট স্বজনরা, প্রিয়ার লা-শের জি’ম্মাদা’র হয়নি কেউ

আদর পাটোয়ারী / ৫৬ Time View
Update : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

চার বছরের বেতন ৫০ হাজার টাকা পেয়েই সন্তুষ্ট স্বজনরা, প্রিয়ার লা-শের জি’ম্মাদা’র হয়নি কেউ

চিরবিদায়ের দিনেও শেষ আশ্রয় মেলেনি গৃহকর্মী ফারজানা প্রিয়ার। নিথর ম’র’দে’হটি গ্রহণ করতে রাজি হননি মা কিংবা কোনো স্বজন। তবে চার বছর কাজের বকেয়া বেতন বাবদ প্রাপ্ত ৫০ হাজার টাকা ও সঙ্গে থাকা মা’লা’মা’ল গোপনে বুঝে নিয়ে চুপচাপ কেটে পড়েছেন তারা। মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে ফেনীর পরশুরামে, যা দেশজুড়ে চরম ক্ষো’ভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ফারজানা প্রিয়া দীর্ঘ চার বছর ধরে স্কুলশিক্ষক জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহক’র্মী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। সেখানে থাকা-খাওয়া ফ্রি হলেও চার বছরে তার মোট বেতন হিসাব করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রিয়ার বেতন ছিল মাত্র ১ হাজার ৪১ টাকা এবং দৈনিক হিসেবে যা দাঁড়ায় মাত্র ৩৫ টাকা।

প্রশ্ন উঠেছে ফারজানা প্রিয়ার দীর্ঘ চার বছরের চাকরির বেতনের টাকা কার কাছে-?
তাঁর সেই বেতনের টাকা কি তার মা পরিচয়ে কিংবা স্বজনেরা নেওয়ার অধিকার রাখে।

অ’ভি’যো’গ উঠেছে, প্রিয়ার মৃ’ত্যু’র পর সেই চার বছরের জমানো ৫০ হাজার টাকা প্রিয়ার মা ও স্বজনেরা গোপনে বুঝে নেন। এমনকি ময়’নাত’দন্ত শেষে ডোমঘরে পাওয়া প্রিয়ার ব্যবহৃত দুটি স্বর্ণের নাকফুলও নেওয়ার দাবিদার তারা। অথচ উপার্জিত অর্থ ও মালামাল নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রিয়ার মায়ের যত তাগিদ ছিল, মেয়ের লা’শ দাফ’নের ক্ষে’ত্রে ঠিক ততটাই উদাসীনতা ও অমানবিকতা দেখিয়েছেন তিনি।

লা’শ নিতে অস্বীকার করার কারণ হিসেবে প্রিয়ার মা জানান, প্রিয়াকে নিয়ে কোথায় দাফন করবেন তার কোনো জায়গা নেই। তা ছাড়া প্রিয়াকে নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নিলে নাকি তার বর্তমান দ্বিতীয় সংসারে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমন নানা অজুহাত দেখিয়ে তিনি মেয়ের লা’শ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

গত শুক্রবার দুপুরে ময়’না’তদ’ন্ত শেষে হাসপাতালের ম’র্গ থেকে প্রিয়ার ম’র’দে’হ হস্তা’ন্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলে স্বজনদের এমন অমানবিক রূপ প্রকাশ পায়। ময়’নাত’দন্ত’কারী ও স্থানীয় প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আইনিভাবে মা-বাবাই সন্তানের সম্পত্তি ও প্রদেয় অর্থের প্রথম হকদার হলেও, সন্তানের লা’শে’র প্রতি আইনগত ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা তারা পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন।

টাকা ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে স্বজনেরা মুখ বন্ধ করে চলে গেলেও প্রিয়ার নিথর দেহটি এখনো ম’র্গের হিমাগারেই থেকে গেছে শেষ দা’ফ’নে’র প্রতীক্ষায়। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার পর কি প্রিয়ার সব হিসাব চুকে গেল?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!