মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
চিরকুটে সানির আকুতি—‘প্লিজ আমার বই চুরি করবেন না’ আমি কষ্ট পাই এমপির গলায় রামদা ধরে সম্পত্তির দলিল নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করবেন যেভাবে- ফেনীতে দিনে দুপুরে কলেজছাত্র ইয়ামিনকে হত্যা ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং– এর নতুন রেকর্ড।  দেশমাতৃকার বীর সেনানী সুবেদার জয়নাল আবেদীনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ পিলখানা হত্যা মামলায় ১৭ বছর কারাবন্দি, জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরলেন পলাশ এবি পার্টি ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হলেন মামুন আনসারী ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে ছাত্রদলের বর্ধিত সভা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

চিরকুটে সানির আকুতি—‘প্লিজ আমার বই চুরি করবেন না’ আমি কষ্ট পাই

আনোয়ার হোসাইন বিন আহমেদ / ৯৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

চুরি হয়ে গেল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বই, চিরকুটে সানির আকুতি—‘প্লিজ আমার বই চুরি করবেন না’

ফেনী প্রতিনিধি: ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দিতে ফেনী সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামের সামনে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন কলেজটির ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সানি মজুমদার। গত বছরের শেষদিকে উদ্বোধনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে। কেউ সেখানে বসে বই পড়তেন, কেউ অবসর সময় কাটাতেন, আবার কেউ কেউ বাড়িতে নিয়ে যেতেন বই।

তবে এই উদ্যোগের আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। অসাধু ব্যক্তিদের চুরিতে ইতোমধ্যে দুইবার পুরো বইয়ের তাক খালি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সানি। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তার উদ্যোগটিও পড়েছে বড় ধরনের ধাক্কায়।

সানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির তাকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বই থাকত। দুই দফায় এসব বই চুরি যাওয়ায় তার প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তবুও থেমে যাননি সানি। নতুন করে আবারও নিজের টাকায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকার বই কিনে লাইব্রেরিতে রেখেছেন তিনি। তবে এবার বইয়ের সঙ্গে একটি চিরকুটও রেখেছেন। সেখানে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বই চুরি না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

চিরকুটে সানি লিখেছেন, “আমি বিত্তশালী নই, ছোট একটি চাকরি করে নিজে পড়ালেখা করি আর আপনাদের জন্য বই কিনি। প্লিজ আমার বই চুরি করবেন না। আমি কষ্ট পাই।”

সানির এই উদ্যোগ মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি এবং অবসর সময়কে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল। উদ্বোধনের পর থেকেই কলেজের শিক্ষার্থীরা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটি ব্যবহার করছিলেন। ক্যাম্পাসে এমন একটি উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।

কিন্তু বই চুরির ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি এমন একটি উন্মুক্ত উদ্যোগ কতটা নিরাপদ? একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার সুযোগ তৈরি হলেও সেটি রক্ষার দায়িত্ব কি শুধু উদ্যোগ গ্রহণকারীর?

সানির মতো একজন শিক্ষার্থী নিজের সীমিত সামর্থ্য থেকে বই কিনে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। সেখানে বারবার বই চুরি হওয়া শুধু তার আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং অন্য শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগও সংকুচিত করছে।

নতুন করে বই রাখার পর সানির ছোট্ট চিরকুটটি তাই কেবল বই চুরি না করার অনুরোধ নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর কষ্ট, ভালো উদ্যোগ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা এবং অন্যদের প্রতি আস্থার প্রকাশ।

এখন কলেজের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতাই পারে সানির এই উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে। বই চুরি না করে বরং বই পড়ে, অন্যকে পড়তে দিয়ে এবং লাইব্রেরিটির প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করলেই সার্থক হবে তার এই প্রচেষ্টা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!