ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শিরিনা রিংকির ঢাকায় মৃত্যু, স্বামী আটক
ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শিরিনা রিংকির ঢাকায় মৃত্যু, স্বামী আটক
রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকায় শিরিনা আক্তার রিংকি (২৩) নামে ফেনী সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আশকোনার ৫৫০ নম্বর বাড়ির একটি ভাড়া বাসার কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও হিদুর নবী অন্তরকে আটক করেছে পুলিশ।
শিরিনা আক্তার রিংকি ফেনী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবার বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট তিতা বটতলা এলাকার রাজা মিয়া বাড়িতে। শ্বশুরবাড়ি একই উপজেলার ঝুলনপুর এলাকায়।
পুলিশ জানায়, আশকোনার ওই ভাড়া বাসায় স্বামী ওহিদুর নবী অন্তরের সঙ্গে থাকতেন শিরিনা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্ষের দরজা ভেঙে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসেন জানান, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় শিরিনার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় তাঁর স্বামী অন্তরও বাসায় ছিলেন। নিহতের গলায় ইউ আকৃতির দাগ পাওয়া গেলেও শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে নিহতের স্বজনেরা দাবি করেছেন, শিরিনার সঙ্গে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে গ্রামের বাড়িতেও অন্তরের পরিবারের লোকজন হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ তাঁদের। ঘটনার আগের রাতে শিরিনা ও অন্তরের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন স্বজনেরা।
নিহতের ভাই আরাফাত আহমেদ অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় শিরিনাকে দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার অন্তরের মামা ও মামী রেখে দিয়েছিলেন। তাঁর আরও দাবি, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অন্তরের পরিবারের লোকজন কয়েক দফা হামলা চালিয়ে হুমকি দিয়েছিল। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরাফাত আহমেদ আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে গ্রামের বাড়ি ও ঢাকায় বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো। তাঁর দাবি, শিরিনাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে শিরিনার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






